রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বিরল প্রজাতির সাদা-কালো ধনেশ পাখির দেখা মিলেছে। উদ্যানের ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় পাখিটির উপস্থিতি নজরে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, বনাঞ্চন পর্যবেক্ষণের সময় ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় ধনেশ পাখিগুলোকে দেখা যায়। এ সময় গাছপালার মধ্যে একাধিক পাখিকে বিচরণ করতে দেখা গেছে।
ধনেশ বড় আকৃতির বননির্ভর পাখি। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ফলসহ প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করে এরা। ফল খাওয়ার পর বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বনাঞ্চলের উদ্ভিদের বিস্তারে ভূমিকা রাখে পাখিটি। এ কারণে ধনেশের উপস্থিতি সুস্থ বনজ পরিবেশের একটি ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান পাহাড়, বন ও কাপ্তাই হ্রদঘেরা একটি সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের এলাকা। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল রয়েছে। উদ্যানটিতে বিরল ধনেশের উপস্থিতি এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় বিরল ধনেশ পাখি দেখা গেছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমেরারি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহসান বলেন, ছবিতে দেখা পাখিগুলো সাদা-কালো ধনেশ (Oriental Pied Hornbill) প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, ধনেশ বননির্ভর পাখি এবং সুস্থ বনজ পরিবেশের সঙ্গে এদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কোনো এলাকায় এ ধরনের পাখির উপস্থিতি সেখানকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ইতিবাচক নির্দেশক।
তিনি বলেন, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এদের উপস্থিতি থাকলে নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বিরল ধনেশের উপস্থিতি এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধতার প্রমাণ। পাখিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষায় বন উজাড়, শিকার ও বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরল পাখি বা বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে ধরার কিংবা কাছে যাওয়ার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ছবি বা ভিডিও ধারণের সময়ও পাখিটির স্বাভাবিক চলাফেরা ও আবাসস্থলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
