নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও রয়েছেন। বাধা হ্রদের পানি উপচে পড়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর নেপালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহত হয়েছেন ৫৩৮ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবারের ঘটনায় আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৪৩ জনে পৌঁছেছে। একই দিন সকালে নেপালে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৬৯।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বন্যার পর দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক, পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও দুর্গম এলাকায় থাকা মানুষ রয়েছেন।
প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী, নেপালে ৯৭৭ জন, ভারতে ৩২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ৩২০ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ। তবে চীনের সীমান্তের অংশে প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে শনাক্ত করা হয়েছে।
নেপালের পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাউন্ট কৈলাশে তীর্থযাত্রায় যাওয়া কয়েকটি দলের সদস্যও বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন। লিফ হলিডেজ জানিয়েছে, তাদের একটি দলের চার ব্রিটিশ নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য একটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আরও নয় ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়া ১৩ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোরী এবং দুই আইরিশ নাগরিকও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে আলপাইন ইকো ট্রেক জানিয়েছে। একটি ব্রিটিশ পরিবারের চার সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। ঘন কাদা পেরিয়ে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গে পৌঁছে এখন পর্যন্ত দুজনকে নিরাপদে বের করে এনেছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আর কতজন আটকা পড়ে আছেন তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। উদ্ধারকাজে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত দল ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্যাকবলিত নেপাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৭ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জন ভারতীয়, ১৬ জন চীনা, ৯ জন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন ইতালীয় এবং দুজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
তবে দুর্গত এলাকার অনেক অংশ এখনো সড়কপথে সহজে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে উদ্ধার তৎপরতায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বন্যার পর ত্রিশূলী নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করায় উদ্ধারকাজে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়। চীন সীমান্তের কাছে উজানে ভূমিধসের ফলে তৈরি একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ার পর শুক্রবার সকালে নদীর পানি বাড়তে থাকে। এ সময় উদ্ধারকর্মীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে ফিরে যাওয়া বাসিন্দাদের আবারও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
নেপালের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হ্রদের পানি উপচে পড়ার কারণে সাময়িক বিরতির পর শুক্রবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
রেড ক্রসের হিসাবে, হিমালয় অঞ্চলের ভূমিধসে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংস্থাটি আরও বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ভূমিধসের কারণে তৈরি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ত্রাণসামগ্রী বহনকারী তাদের কিছু ট্রাকও আটকা পড়েছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদুর শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। নদীর উপত্যকা দিয়ে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসায় অনেক বাড়িঘর ভেসে যায়। উদ্ধারকাজের সময় সেখানকার বাসিন্দাদের আবারও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
