রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা পুরোনো কৃষ্ণচূড়াগাছটি ভেঙে পড়েছে। সোমবার সকালে গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজেদের তোলা ছবি প্রকাশ করে স্মৃতিচারণা করেন। প্রিয় গাছটি হারিয়ে অনেকেই দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রজন্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে গাছটি ছিল পরিচিত এক স্মৃতিচিহ্ন। কেউ নিয়মিত যাতায়াতের পথে গাছটিকে দেখেছেন, কেউ সেখানে ছবি তুলেছেন। আবার কারও জীবনের বিশেষ কোনো দিনের স্মৃতিও জড়িয়ে ছিল গাছটির সঙ্গে। গ্রীষ্মকালে রক্তিম ফুলে ভরে উঠলে পথচারীদের অনেকেই সেখানে কিছুক্ষণ থেমে যেতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম মাহমুবুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই গাছটি লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মূল কাণ্ডে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও পানি জমে পচন ধরেছিল। পাশাপাশি গাছটির শাখা-প্রশাখা অনেক বেশি হওয়ায় একপর্যায়ে অতিরিক্ত ওজনের কারণে এটি ভেঙে পড়ে।
গাছটি ভেঙে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী কৌশিক দাশ কঙ্কণ গাছটির ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে আজ শোকের দিন!’ জান্নাতুন নাঈম মন্তব্য করেছেন, ‘আহ কৃষ্ণচূড়া! মোচড় দিয়ে উঠল কেমন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুনও গাছটির সঙ্গে নিজের টানের কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। সজীব আহমেদ লিখেছেন, ‘এই গাছটা সব সময় আমার স্মৃতিতে থাকবে।’ বন্না মণ্ডল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের মানুষ হলেও গাছটি তাঁর খুব প্রিয় ছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারও গাছটি নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেগ, অনুভূতি ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই কৃষ্ণচূড়াও বিদায় নিয়েছে।
‘আরইউ ইনসাইডার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গাছটি ভেঙে পড়ার ছবি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গাছটি ছাড়া ওই স্থানটি কেমন দেখাবে, তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। সেখানে গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করা হয়।
বিশেষ করে বিজ্ঞান ভবনকেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গাছটির ছিল আলাদা এক সম্পর্ক। শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান বলেন, বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের কষ্টটা সম্ভবত বেশি। সম্প্রতি সেখানে একটি অনুষ্ঠান করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাগীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওই জায়গায় গিয়ে ছবি তোলা হতো। প্রতিদিন ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় গাছটি চোখে পড়ত। তাই এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতি ভুলে যাওয়া কঠিন।
আরেক শিক্ষার্থী মুবতাসিন ফুয়াদ ধ্রুব জানান, গাছটিকে ঘিরে বর্ষা উৎসব আয়োজনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। এখন ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটা এবং গাছটির জায়গায় তৈরি হওয়া শূন্যতার দিকে তাকানো তাঁর জন্য কষ্টের হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের একটি পরিচিত দৃশ্য হয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়াগাছটির পতনে তাই শুধু একটি গাছ হারানোর ঘটনা নয়, অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাছে এটি পুরোনো স্মৃতির একটি অংশ হারিয়ে যাওয়ার মতো হয়ে উঠেছে।
