পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সার্কুলার অর্থনীতির বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ২৫ জন উদ্ভাবককে জাতীয় পর্যায়ে ‘ক্লিনটেক অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্লিনটেক অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেস’-এ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও), এসএমই ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রসার এবং টেকসই শিল্পায়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী জমা পড়া ৬৪৩টি আবেদন থেকে একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে ২৫ জন উদ্ভাবককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, শীর্ষ তিন উদ্ভাবক প্রত্যেকে পাঁচ লাখ টাকা, পরবর্তী সাতজন সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং বাকি ১৫ জন এক লাখ টাকা করে ‘অ্যাকসেলারেটর সাপোর্ট ফান্ড’ পেয়েছেন। পাশাপাশি তারা ব্যবসা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগও পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের সবুজ অর্থনীতি গঠনে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে দেশীয় উদ্ভাবকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ইউএনআইডিওর সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিশিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও বর্জ্য হ্রাসের মাধ্যমে টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান প্রজন্মের উদ্ভাবকেরা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের সক্ষমতা দেখিয়েছেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ‘ইনোভেশন শোকেস’ পর্বে উদ্ভাবকেরা তাদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং সবুজ শিল্পায়নের প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
