২৪ ঘণ্টায় ৩৩০.৮ মিলিমিটার বর্ষণ; সড়ক ধস, পরীক্ষা স্থগিত, আরও এক সপ্তাহ বৃষ্টির আভাস
মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে চলতি বর্ষা মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। টানা বর্ষণে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রেকর্ড করা এই বৃষ্টিপাতকে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সাম্প্রতিক নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে।
অবিরাম বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক সড়ক আংশিকভাবে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
নগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা বজায় থাকে।
ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। উড়ালসড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ওই সড়কটি বৃষ্টির পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এর প্রভাব প্রবল। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন খাল ও নালার সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে অধিকাংশ এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়নি।
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নগর অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত নগরবাসীর জন্য নতুন করে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতা, সড়ক ক্ষতি এবং শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্নের মধ্যেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরবাসীকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
