জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও কোনো প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি। শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গোপন ভোট হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো ফল প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে বর্তমানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটেও কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি।
দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। আর তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, যিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের ম্যাকি স্যাল, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, চিলির মিশেল ব্যাসেলেট এবং উগান্ডার ওলারা ওতুন্নু।
জাতিসংঘ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়ে নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্যদেশ এবার একজন নারীকে মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়। তারা এ বিষয়ে নিজেদের পছন্দের কথা প্রকাশও করেছে।
তবে মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য অস্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক বলেছেন, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
মহাসচিব পদে কোনো প্রার্থীকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া—এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একটি দেশের ভেটোও পাওয়া যাবে না। বর্তমানে এই পাঁচ দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর বিভক্তি ও মতবিরোধ রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বাধা পেরোতে পারলে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।
ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা গোপন ব্যালটে প্রার্থীদের বিষয়ে মত দেন। প্রতিটি ব্যালটে তিন ধরনের বিকল্প থাকে—‘উৎসাহিত করা’, ‘নিরুৎসাহিত করা’ এবং ‘মতামত নেই’।
কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো দিয়েছে কি না। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হবে না।
নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর নাম না বলেই বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন মহাসচিবকে জাতিসংঘকে তার মূল লক্ষ্যে ফিরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
তৃতীয় দফার ভোটেও কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে না থাকায় জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
