সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অবমাননার অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশ
ঢাকা: জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননা ও বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার সকালে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন এবং এতে শহীদদের আত্মত্যাগকে ঘিরে আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য ও কনটেন্ট প্রচার করেছেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ড আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনের স্মৃতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেগকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লিখিত অভিযোগে শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে আরও একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এমন কনটেন্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা কনটেন্ট জনশৃঙ্খলা, সামাজিক সম্প্রীতি বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতিকে প্রভাবিত করলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও আইনি অভিযোগের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা বর্তমান ডিজিটাল যুগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে এই অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
