জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যেতে পারে—এমন আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে এনসিপি বা তাঁদের কোনো এজেন্ডা নেই। তিনি বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া-পড়শির ঘুম নাই।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের মধ্যে প্রচলিত অর্থে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নেই। এটি মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য। পাশাপাশি জনগণের স্বার্থে তাঁরা একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
১১-দলীয় ঐক্য থেকে দুটি দলের বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে জোটের পরিধি পরিবর্তিত হয়েছে। শুরুতে চার দল নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরে তা ১৮ দল, ২০ দল এবং একপর্যায়ে ২৭ দলের সমন্বয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সেটি ২০-দলীয় ঐক্যজোট হিসেবেই পরিচিত ছিল।
জোটের শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কাউকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে থাকতে বাধ্য করার অধিকার তাঁদের নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান ঐক্য আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা তাঁরা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। শরিক দলগুলোর সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরে থাকা যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দল তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসনের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী দলের ক্ষেত্রে তার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের অধিকার।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বিরোধী দলের আসনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, সংবিধানে এ ধরনের ব্যবস্থার কোনো বিধান নেই এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অতীতেও এমন নজির দেখা যায়নি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তাঁর দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কার্যকর পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই ১১-দলীয় ঐক্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে বিষয়টির সমাধান করতে চাইলেও সরকার তাঁদের রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য করেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বলেন, গণভোটের রায় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তও এখনো অর্জিত হয়নি। এসব কারণে তাঁরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।
দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং সারের দাম বৃদ্ধির বিষয়ও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। এসব কারণে জনগণের ভোগান্তির বিরুদ্ধে তাঁরা সংসদ ও রাজপথে কথা বলে যাবেন বলে জানান তিনি।
আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি যুক্ত হতে চায়, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক, বাংলাদেশপন্থী ও ইসলামের পক্ষের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
