দুই দফা মূল্যহ্রাসে কয়েক হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দর, নতুন দামে বিক্রি শুরু
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যহ্রাসের ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় পর্যায়ে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায়।
স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক এই হ্রাস বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ১৩ জুলাইও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ দুই দফা মূল্য সমন্বয়ের ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় বাজুস নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে জুয়েলারি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে মজুরি, নকশা ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হতে পারে। ফলে অলঙ্কারভেদে বিক্রয়মূল্যে কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
স্বর্ণের মূল্য কমে আসায় বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্যের কারণে অপেক্ষায় থাকা অনেক ক্রেতা নতুন মূল্যহারে বাজারে ফিরতে পারেন।
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী মূল্য পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখছেন।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৯১ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৬ বার হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। যদিও বাজারের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক প্রবণতা ও স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তবুও বর্তমান মূল্য সমন্বয় স্বর্ণ ক্রয়ে আগ্রহী সাধারণ ভোক্তাদের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
