দীর্ঘ বিরতির পর কক্সবাজারের টেকনাফের গহিন পাহাড়ে একসঙ্গে দেখা মিলেছে বন্য হাতির একটি পালের। সোমবার দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার পশ্চিমের গভীর বনে হাতির দলটির দেখা পায় স্থানীয়রা। সারিবদ্ধভাবে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করা হাতিগুলো দেখতে পাহাড়ে চাষাবাদ করা মানুষজন সেখানে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন এলাকায় এক-দুটি বন্য হাতি দেখা গেলেও দীর্ঘদিন ধরে দলবদ্ধ হাতির পাল প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে টেকনাফে একসঙ্গে হাতির পাল দেখা স্থানীয়দের কাছে বিরল ঘটনা হয়ে উঠেছে।
সোমবার দুপুরে ঝিমংখালী এলাকার পশ্চিমের গহিন বনে হাতিগুলোকে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, বন্য হাতি পাহাড়ি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এসব প্রাণীর বিচরণের মাধ্যমে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় চারা গাছের বিস্তারও ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই দশক আগেও টেকনাফের পাহাড়গুলো ঘন বনজঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে বন ও পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এতে হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও কমে গেছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, টেকনাফে এখন বন্য হাতির পাল দেখা ‘সোনার হরিণ’-এর মতো। একসময় পাহাড়ে হাতি, বাঘ, ভাল্লুক, শালিক, ময়না, বানর, হরিণ ও কালান্তর সাফসহ নানা ধরনের প্রাণী দেখা যেত। বন উজাড়ের কারণে এসব প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাহাড়ে চারা রোপণ করে আবারও গহিন বন সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ মঙ্গলবার বিকালে জানান, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতায় ১৪০ হেক্টর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করে বনায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চার দিন আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সরেজমিনে ওই বাগান পরিদর্শন করেছেন। রোপণ করা গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে টেকনাফ আবারও বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রমে পরিণত হবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।
