ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরায় সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহনের গতি ও গতিপথ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হবে। অপরাধ ধরা পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে কুমিল্লা অংশে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নজরদারি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১৯৯টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের গতি ও চলাচলের ধরন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো গাড়ি নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে চললে কিংবা বেপরোয়া চালানোসহ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তা শনাক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হলে ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা কমবে এবং চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়বে।
নিয়মিত মহাসড়ক ব্যবহারকারী চালকেরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সার্বক্ষণিক ক্যামেরা নজরদারি থাকলে আইন মেনে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে।
যাত্রীবাহী বাসচালক আব্দুল মতিন বলেন, ক্যামেরায় যানবাহনের ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আইন ভঙ্গের পর তা অস্বীকার করা কিংবা ভুল তথ্য দেওয়ার সুযোগ কমবে। জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধের ব্যবস্থা থাকলে চালক ও গাড়ির মালিক—উভয়েই আরও সতর্ক থাকবেন।
ট্রাকচালক আবু তাহেরের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতা কমার পাশাপাশি চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য হবেন।
সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব এক্সিডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আবদুর রাজ্জাক (রাশেদ) বলেন, দীর্ঘ সময় পর সরকার যুগোপযোগী একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, যার পেছনে চালক ও সংশ্লিষ্টদের অসচেতনতা অন্যতম কারণ। এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা চালু হলে চালকদের সচেতনতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে থাকবে ১৯৯টি। তাঁর মতে, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালু হলে ট্রাফিক আইন পালনে চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, মহাসড়কে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে যান চলাচল নিশ্চিত করাই এআই ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য।
