নিট পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক এবং শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি শেয়ার করে তিনি বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ করার সাহস নিয়ে তিনি গর্বিত, যদিও তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে—এটি দুঃখজনক।
নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের আন্দোলনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন টুইঙ্কেল খান্না।
পোস্টে থাকা প্রথম ছবিটি ছিল ২৭ বছর বয়সী মডেল রিয়া আহিরের। শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ চলাকালে আটক আন্দোলনকারীদের বহনকারী পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায় তাকে। আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে রিয়া অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, দিল্লিতে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় এক নারী অন্য বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে মানবঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন।
ছবিগুলোর ক্যাপশনে টুইঙ্কেল খান্না লেখেন, “আমি এমন একটি দেশের নাগরিক হিসেবে গর্বিত, যেখানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখনও প্রতিবাদ জানানোর, প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং টিয়ার গ্যাস ও লাঠির আঘাত সহ্য করার সাহস রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, তাদের বাধ্য হয়ে এসবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি ইতোমধ্যে বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা সমর্থন জানিয়েছেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও অভিনেতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া সালমান খান, আলিয়া ভাট, সোনাক্ষী সিনহা, ইমরান খান এবং রাজকুমার রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
জানা যায়, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘ককরোচ’ শব্দ ব্যবহার করার পর আন্দোলনকারীরা সেটিকেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে ব্যঙ্গাত্মক নামের এই সংগঠন গঠন করেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নতুন গতি পায়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া কর্মসূচির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
