অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জানালেন সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না
দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান সুসংহত করতে দেশব্যাপী প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সংগঠনের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এ তথ্য জানান। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের বেআইনি, সন্ত্রাসী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আবদুল মোনায়েম মুন্নার ভাষ্য অনুযায়ী, যুবদল আদর্শভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। এ কারণে দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন বা সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি স্পষ্ট করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নজরদারি আরও জোরদার করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি জনআস্থা ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মোনায়েম মুন্না সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যুবদলের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং অনেকেই প্রাণহানি ও শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন সফল করতে গিয়ে সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠন অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও নেতাদের আচরণ নিয়ে জনমনে বাড়তি নজরদারির প্রেক্ষাপটে যুবদলের এ পদক্ষেপ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের মাধ্যমে যুবদল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অনৈতিক বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
