ঢাকার বাইরে রাতযাপন না করার পরামর্শ, বিদেশি প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সেমিনারে কর্নেল অলি বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন, প্রয়োজন ছাড়া ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করাই নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অধিকতর উপযোগী হতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ঘিরে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সবসময় দৃশ্যমান থাকে না। এ কারণে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
কর্নেল অলি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বিদেশি স্বার্থে কাজ করে থাকে, তাহলে তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এ ধরনের বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক সময় প্রকাশ্য বিরোধীদের তুলনায় ক্ষমতার আশপাশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করাও জরুরি। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
সেমিনারে কর্নেল অলি স্পষ্ট করেন যে, ১১ দলীয় জোট সরকারের বিরোধিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের কল্যাণে গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ প্রদানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সংলাপ প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন, সংস্কার, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্নেল অলির বক্তব্যও সেই চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর সেমিনারে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যু আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
