দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলওয়ে স্টেশন। প্রাথমিক পর্যায়ে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনকে স্টেশনটিতে যাত্রাবিরতির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুরকান আহমেদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছিলেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালুর বিষয়টি। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে তিনটি ট্রেনের যাত্রাবিরতির আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসকে রাবি স্টেশনে থামানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে আরও ট্রেনের স্টপেজ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, ট্রেনগুলোর সময়সূচি সমন্বয়সহ কয়েকটি প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৬ আগস্ট আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুরকান আহমেদকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) কর্তৃক মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে পড়ায় শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর পরপরই ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
