বলিউড অভিনেত্রী সামিরা রেড্ডি তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’–তে অভিনয়ের সময় তাঁকে মেকআপের মাধ্যমে স্বাভাবিক গায়ের রঙের চেয়ে দুই থেকে তিন শেড ফর্সা দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি শরীরের গঠন নিয়েও নানা ধরনের মন্তব্য ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
সম্প্রতি হাউটারফ্লাই–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিরা রেড্ডি বলেন, “আমার প্রথম ছবি ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’–তে আমাকে দুই থেকে তিন শেড ফর্সা করা হয়েছিল। এতে আমাকে প্রায় ধূসর দেখাত। মুখের রঙের সঙ্গে শরীরের রঙ মিলিয়ে রাখতে পুরো শরীরে মেকআপ ব্যবহার করতাম।”
সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিনেত্রী বলেন, “অনেক নারী নিজেদের পরিবারেই এ ধরনের মন্তব্যের শিকার হন। বাবা-মা কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলেন, ‘তুমি কালো’ বা ‘মোটা’। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নির্ধারণের অধিকার কে দিয়েছে?”
সামিরা জানান, নিজের শারীরিক গঠন ও চেহারা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে তাঁর ২০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে।
তাঁর ভাষায়, “আমি কী উপস্থাপন করছি, কী বিক্রি করছি এবং আমি আসলে কে—এই দ্বন্দ্ব থেকে বের হতে আমার চল্লিশের কোঠায় পৌঁছাতে হয়েছে। প্রায় ২০ বছর লেগেছে। এই সময়জুড়ে আমি প্যাডেড ব্রা, শরীরের গঠন পরিবর্তনের বিভিন্ন উপকরণ এবং রঙিন কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেছি।”
অভিনেত্রী জানান, শৈশব থেকেই তিনি কিছুটা স্থূলকায় ছিলেন। ওজন কমানোর পরও সমালোচনা থামেনি।
তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই কিছুটা স্বাস্থ্যবান ছিলাম। যখন ওজন কমালাম, তখন বলা হলো আমার শরীরের গঠন ঠিক নেই। ত্রিশের কোঠা পর্যন্ত আমি নিজের পরিচয় নিয়েই সংগ্রাম করেছি—আমি খুব ফর্সা নই, আমার চোখ হালকা রঙের নয়, আবার খুব লম্বাও নই।”
আরও বলেন, “আমার সহ-অভিনেতা লম্বা না হওয়ায় আমি ঝুঁকে হাঁটতাম। এখন মনে হয়, এটা আমার সমস্যা নয়। কিন্তু তখন এসব বিষয়কে বড় সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হতো এবং মেয়েদের খারাপ অনুভব করানো হতো।”
সামিরা রেড্ডির দাবি, শুধু বাইরের মানুষ নয়, চলচ্চিত্র ইউনিটের সদস্যদের কাছ থেকেও তাঁকে শরীরের গঠন পরিবর্তনের পরামর্শ শুনতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “পোশাক ডিজাইনাররাও শুরু থেকেই বলতেন, এ বিষয়ে কিছু করতে হবে। আমার প্রায় সব পোশাকেই প্যাডযুক্ত ব্রা লাগানো থাকত। আমাকে অনেকবার বলা হয়েছে, ‘আর কত প্যাড ব্যবহার করা যাবে? কিছু একটা করো।’”
২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সামিরা রেড্ডি ও সোহেল খানের। ছবিটির কাহিনি, পরিচালনা ও প্রযোজনার দায়িত্বেও ছিলেন সোহেল খান।
দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর সম্প্রতি অভিনয়ে ফিরেছেন সামিরা। অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং পরিচালিত রাজনৈতিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘আখরি সওয়াল’–এ অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর বলিউডে প্রত্যাবর্তন ঘটে। ছবিটি গত ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
