সাত মাস পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন আইন নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার দুদককে ধ্বংস করেছে এবং শেখ হাসিনার সরকারের মতোই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার কমিশন না করা, পুলিশকে বিরোধী দল দমনে প্রস্তুত করা এবং নির্বাচন কমিশনকে দুর্বল করার অভিযোগও করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। তিনি তারেক রহমানকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার অভিযোগ করেন এবং বলেন, শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারের পথে গেলে দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করলেও ক্ষমতায় এসে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে এবং মানবাধিকার হরণ করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলা, তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ‘মিম’ তৈরি করা বা গালি দেওয়া সন্ত্রাস নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নামে খারাপ ভাষা ব্যবহার ও কটূক্তিকে তাঁরা সমর্থন করেন না এবং এ কারণে দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, এসআরবি এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম।
গুমের অভিযোগের তদন্ত অভিযোগের আওতায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে হলে স্বাধীন তদন্ত সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ গুমের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, মিরাজ শেখ নামে বাগেরহাটের এক জেলের পাঁচ মাস ধরে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।
এ ছাড়া এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর ও গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শক্তিশালী আইন করার কথা বললেও এমন আইন সংসদে এনেছে, যাতে অপরাধ দমন বা বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার বদলে অপরাধীরা সুবিধা পেতে পারে এবং বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হতে পারে।
আখতার হোসেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ফিরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
তিনি গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন বাতিল, র্যাবের মতো বাহিনী নতুন করে গড়ে না ওঠা, সাইবার নিরাপত্তা আইনে নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা হরণ করে এমন বিধান না রাখা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন পক্ষের সুপারিশের পরও আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুরোনো কাঠামো নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গুমের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং তদন্তকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে এনসিপির যুবসংগঠন যুবশক্তি ও ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
