ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেপালি গোরখা যুবকদের নিয়োগ ফের শুরু হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠের নেপাল সফরে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হলেও, গোরখা নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।
কেন বন্ধ রয়েছে গোরখা নিয়োগ?
কোভিড-১৯ মহামারির পর নেপাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নতুন গোরখা নিয়োগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে ভারতে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অগ্নিপথ প্রকল্পে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে চার বছরের জন্য সৈনিক নিয়োগ করা হয়। নেপালের আপত্তির অন্যতম কারণ হলো চার বছর পর এসব সৈনিকের কর্মসংস্থান ও অবসর-পরবর্তী সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে এই নিয়োগ ব্যবস্থা ১৯৪৭ সালের ভারত-নেপাল-যুক্তরাজ্যের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও কাঠমান্ডোর প্রশ্ন রয়েছে।
দুই শতাব্দীর সামরিক ইতিহাস
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে গোরখাদের উপস্থিতির ইতিহাস দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ভারত, নেপাল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির পর ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোরখা রেজিমেন্টগুলোর একটি অংশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সাতটি গোরখা রেজিমেন্ট রয়েছে।
গোরখাদের সামরিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ‘কুকরি’ নামের বাঁকানো ছোরাটিও গভীরভাবে জড়িত। সাহসিকতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য গোরখা সৈনিকরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ ও ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে বিশেষ পরিচিতি পেয়ে এসেছে।
নিয়োগ বন্ধ থাকায় বাড়ছে উদ্বেগ
গোরখা নিয়োগ ভারত-নেপাল সম্পর্কের শুধুমাত্র সামরিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সামাজিক সম্পর্কও জড়িত। সম্প্রতি নেপালের পোখরায় সাবেক গোরখা সৈনিক ও তাঁদের সমর্থকেরা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেপালি যুবকদের নিয়োগ পুনরায় শুরু করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
অন্যদিকে, গোরখা নিয়োগের ঐতিহ্য ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও বিপুল সংখ্যক নেপালি গোরখা ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেছেন। ১৯৪৭ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির পর গোরখা রেজিমেন্টের একটি অংশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থেকে যায়।
সেনাপ্রধানের নেপাল সফরে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জেনারেল ধীরজ শেঠ ১৭ থেকে ১৯ আগস্ট নেপাল সফর করছেন। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের কাছ থেকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদ গ্রহণ। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানদের পরস্পরকে সম্মানসূচক এই পদ দেওয়ার ঐতিহ্য ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসছে।
তবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের পরও গোরখা নিয়োগ নিয়ে কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ফলে নেপালি যুবকদের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিনের গোরখা নিয়োগ ব্যবস্থা কবে আবার চালু হবে, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে।
