ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত
দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতার কারণে এ ধরনের দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। এতে নৌযান চলাচল, মৎস্য আহরণ এবং খোলা স্থানে কাজ করা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান না করাই নিরাপদ। একই সঙ্গে ছোট নৌযানগুলোকে প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উপকূল ও নদীসংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও খোলা তার থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষাকালে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।
