বাংলাদেশে চলমান হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে দেশে হাম-সংশ্লিষ্ট নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে ৭২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৬৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং পরীক্ষাগারে ১৫৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবাইকে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে দেশে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩১ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ৯৩ জন রয়েছে।
ডিজিএইচএসের তথ্য বলছে, গত এক দিনে আরও ৯৬৫ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে ১৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এতে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া মোট সংক্রমণের সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬ জনে উন্নীত হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ফলে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হলেও নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে শিশুদের নির্ধারিত টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
