ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ৩২ পর্বে আজ ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে স্পেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা স্প্যানিশরা টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত ধারাবাহিকতা এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণ নিয়ে মাঠে নামলেও তাদের সামনে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে—বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করলেও শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে তারা কতটা কার্যকর?
গ্রুপ পর্বে দুই জয় ও এক ড্রয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে স্পেন। তিন ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন ৩৪ ম্যাচে পৌঁছেছে। জাতীয় দলের ইতিহাসে দীর্ঘতম অপরাজিত ধারাবাহিকতার রেকর্ড ৩৫ ম্যাচ, যা ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলে এর চেয়ে দীর্ঘতম অপরাজিত রেকর্ড ইতালির, যারা ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৭ ম্যাচ হারেনি।
তবে পরিসংখ্যান যতই শক্তিশালী হোক, স্পেনের খেলায় এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে অভিষিক্ত দল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র সেই দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে। ম্যাচটিতে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও এবং ২৭টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি লা রোজা। প্রতিপক্ষের সুশৃঙ্খল ও ঘন রক্ষণভাগের বিপক্ষে কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় তারা।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে বিদায়ের স্মৃতিও যেন ফিরে আসে সেই ম্যাচে। বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও স্কোরবোর্ডে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি স্পেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গাভি ও ফেরান তোরেস উইংয়ে খেললেও স্পেন ৩৯টি ক্রস থেকে মাত্র আটটি সফল করতে পেরেছিল। অবশ্য এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারানো এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে নিকো উইলিয়ামস ডান পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন এবং ইয়েরেমি পিনো কাঁধে চোট পান। দুজনেরই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, রালফ রাংনিকের অধীনে ৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া। দলটি রক্ষণে সংগঠিত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল খেলার জন্য পরিচিত। কেপ ভার্দের মতো কেবল রক্ষণাত্মক না থেকে তারা পাল্টা আক্রমণেও বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে স্পেনকে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন বিশ্বকাপে টানা ৪২৯ মিনিট ধরে গোল হজম করেননি। এবার স্পেনের লক্ষ্য হবে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণ ধরে রাখার পাশাপাশি জমাট বাঁধা প্রতিরক্ষা ভেঙে গোল আদায়ের সক্ষমতাও প্রমাণ করা।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী রাউন্ডে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচের জয়ীর মুখোমুখি হবে।
ম্যাচকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য তথ্য
- অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ পাঁচ দেখায় স্পেনের চার জয় ও এক ড্র রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাতে তারা ২০০৯ সালে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র পূর্ববর্তী সাক্ষাতে ১৯৭৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রিয়া।
- ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর থেকে স্পেন আর কোনো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ সালে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে বিদায় নেয় তারা।
- ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল করেছে।
- ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলছে অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান বিশ্বকাপে স্পেন টানা চার ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে, যা ২০১০ সালের শিরোপাজয়ী অভিযানের সমান।
- ১৯৮২ সালে আলজেরিয়াকে হারানোর পর বিশ্বকাপের টানা ১২ ম্যাচে কোনো ক্লিন শিট রাখতে পারেনি অস্ট্রিয়া।
- চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যে শট নিতে দেয়নি।
