প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদনের পর এখন গেজেট জারির অপেক্ষা। নতুন বেতন কাঠামোসংক্রান্ত আদেশ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
নতুন পে স্কেলের গেজেটের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বিষয় স্পষ্ট হবে।
এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়।
একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ তৈরির জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
পর্যালোচনার পর নতুন পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেও নতুন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্যমান সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
এর ফলে নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।
গেজেট বা সংশ্লিষ্ট আদেশ জারি হলে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নসহ অন্যান্য বিস্তারিত বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।
