নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক পাহাড়ি নদীর বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগের পর এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে নদীর গতিপথ ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে নেপালের রসুয়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভোতকোশি ও ত্রিশূলি নদীতে হঠাৎ পানির তীব্র ঢল নামে। পানির সঙ্গে ধ্বংসাবশেষও নেমে আসে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, পাকা সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্গম কয়েকটি এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলোতে অন্তত ৬৬৭ জন পর্যটক ও পরিব্রাজক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।
দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন ভারতীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। আরও ১৮ জনের জাতীয়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
নিখোঁজ পর্যটকদের শনাক্ত ও উদ্ধারে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্থানীয় ট্রেকিং এজেন্সিগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীতীর ও ভাটি এলাকায় জীবিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মরদেহের সন্ধান চালাচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইও চলছে।
হিমালয়ের পাদদেশের এই এলাকায় কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই এত বিধ্বংসী পানির ঢল কেন সৃষ্টি হলো, তা এখনো তদন্তাধীন। আকস্মিক এই জলচ্ছ্বাসের কারণে নদী অববাহিকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার খুব কম সময় পেয়েছেন।
