নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এ ছাড়া এখনও ৪ হাজার ২০০ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, অন্তত ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নেপালে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নেপালে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে উদ্ধারকারীদের সামনে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ ব্যবস্থাপনা। পানিতে ভেসে আসা শত শত মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর অশনাক্ত মরদেহ গণকবর দেওয়া শুরু করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগকবলিত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে শত শত মরদেহের জন্য গণকবর খোঁড়া হয়েছে।
সেখানে গতকাল শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার ৯৬টি মরদেহ কবর দেওয়া হয়।
চিতওয়ানের ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য বলেন, বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সেগুলো দাফন করতে হচ্ছে।
এদিকে নেপালে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিও কাটেনি। উজানে ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। এই হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। তিব্বতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
