দেশ থেকে পান রপ্তানি গত এক বছরে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। এ পতনের পেছনে পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছে কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব শাখা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পান রপ্তানিকারক সমিতির কয়েকজন নেতা প্রকৃত রপ্তানিকারক না হলেও রপ্তানি কার্যক্রমে বিভিন্ন শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করছেন। এতে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
সংগঠনটির দাবি, রপ্তানি সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ইপিবি, এফবিসিসিআই ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমিতির পক্ষ থেকে আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি পানের বাস্কেটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সমিতির সদস্য না হলে রপ্তানির অনুমোদন না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নিয়মিত রপ্তানিকারকদের অনেকেই বাধার মুখে পড়ছেন এবং বিকল্প উৎস থেকে পান সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়াও করা যাচ্ছে না। এতে পান রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানি আয়ে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পান রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২১ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
সাধারণ রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং আদালতের রায়ের পরও সমিতির বাধ্যতামূলক সদস্যপদ ও প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা আবার কার্যকর করা হয়েছে। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ কমছে এবং পুরোনো রপ্তানিকারকরাও ব্যবসা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন।
এ ছাড়া প্রতি শিপমেন্টে রপ্তানির পরিমাণ সীমিত করা, মাসে ৩০০ বাস্কেটের বেশি পান রপ্তানিতে বাধা এবং তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে পান উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
চিঠিতে পান রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব বৈধ রপ্তানিকারকের জন্য সমান সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
