খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ভিয়েতনামী লংগান চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমা। পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই চাষ এখন লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে তাঁর বাগানে ভালো ফলন হওয়ায় প্রতি কেজি লংগান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় এই বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে লিচুর মতো দেখতে হলেও ভিয়েতনামী লংগানের বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন। ফলটি রসালো, বীজ তুলনামূলক ছোট এবং বছরে দুইবার ফলন দেয়, যা একে অর্থনৈতিকভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি লংগান চাষে আগ্রহী হন। পরে দিনাজপুরে থাকা এক বন্ধুর সহায়তায় প্রতিটি ১ হাজার ২০০ টাকা দামে পাঁচ থেকে ছয়টি চারা সংগ্রহ করে নিজের বাগানে রোপণ করেন।
তিনি বলেন, “শুরুর দিকে পাহাড়ে এই ফলের চাষ সফল হবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে চারা লাগানোর পর তেমন বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়নি। এমনকি গাছে কোনো সার বা কীটনাশকও ব্যবহার করিনি।”
বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ের মাটি লংগান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে বড় পরিসরে চাষ করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসলে পরিণত হতে পারে।”
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভিয়েতনামী লংগান লিচুজাতীয় একটি বিদেশি ফল। এতে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য উপকারী। স্থানীয় বাজারে এ ফলের চাহিদাও ভালো।
তিনি জানান, তরুণ উদ্যোক্তারা যদি বাণিজ্যিকভাবে লংগান চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
সমতল অঞ্চলে যেখানে প্রতি কেজি ভিয়েতনামী লংগান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে পাহাড়ে উৎপাদিত ফল তুলনামূলক কম দামে বাজারজাত হলেও উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় এটি লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
