পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি? সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডসহ বিস্তারিত

পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি? সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডসহ বিস্তারিত

 

পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে প্রথমেই ‘সবচেয়ে গরম’ বলতে কোন তাপমাত্রাকে বোঝানো হচ্ছে, তা পরিষ্কার করা জরুরি। কোনো দেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এক বিষয় নয়। একটি দেশ সারা বছর গড় হিসেবে বেশি উষ্ণ হতে পারে, আবার অন্য কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও বেশি হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক বার্ষিক গড় তাপমাত্রার তথ্য অনুযায়ী, মালি বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালের Our World in Data-এর Copernicus Climate Change Service-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মালির গড় পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই হিসাবে বুরকিনা ফাসোর গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.২১ ডিগ্রি এবং জিবুতির ২৯.১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

তবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রার রেকর্ড মালিতে নয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা World Meteorological Organization (WMO)-এর রেকর্ড অনুযায়ী, পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত বায়ুর তাপমাত্রা ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালির ফার্নেস ক্রিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

 

অতএব, বার্ষিক গড় তাপমাত্রার হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ দেশ এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড—দুটি আলাদা বিষয়। এই পার্থক্যটি না করলে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ’ প্রশ্নের উত্তর বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

 

পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত?

WMO-এর Weather and Climate Extremes Archive অনুযায়ী, পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের সমান।

এই রেকর্ডের বিস্তারিত হলো—

  • তাপমাত্রা: ৫৬.৭°C
  • স্থান: ফার্নেস ক্রিক, ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
  • তারিখ: ১০ জুলাই ১৯১৩
  • রেকর্ডের ধরন: সর্বোচ্চ স্বীকৃত বায়ুর তাপমাত্রা
  • স্বীকৃত সংস্থা: World Meteorological Organization (WMO)

ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অত্যন্ত শুষ্ক ও নিচু মরুভূমি অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত এর ভৌগোলিক অবস্থান, শুষ্ক আবহাওয়া এবং চারপাশের পর্বতশ্রেণি সেখানে তীব্র গরমের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

তবে ডেথ ভ্যালির এই রেকর্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো দেশের গড় তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। এটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে রেকর্ড করা চরম তাপমাত্রা।

 

৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পুরোনো রেকর্ড কেন বাতিল হলো?

পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ইতিহাসে একসময় ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি রেকর্ডও উল্লেখ করা হতো। ১৯২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইতালীয়-নিয়ন্ত্রিত লিবিয়ার এল আজিজিয়ায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

 

দীর্ঘদিন এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু পরে WMO-এর বিশেষজ্ঞদের একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে রেকর্ডটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়।

 

তদন্তে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের ধরন ও অবস্থান, পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি, পর্যবেক্ষকের অভিজ্ঞতা এবং আশপাশের আবহাওয়া স্টেশনের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যসহ বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। পর্যালোচনার পর WMO ২০১২ সালে এল আজিজিয়ার ৫৮°C রেকর্ডটি বাতিল করে।

 

ফলে বর্তমানে WMO-এর স্বীকৃত রেকর্ডে পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে ডেথ ভ্যালির ৫৬.৭°C-ই বহাল রয়েছে।

 

বিশ্বের কোন কোন দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে?

 

চরম তাপমাত্রার রেকর্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

 

WMO-এর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা ৫৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৩১ সালের ৭ জুলাই তিউনিসিয়ার কেবিলি শহরে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

 

এশিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রার রেকর্ড হলো ৫৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ± ০.১ ডিগ্রি। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই কুয়েতের মিত্রিবাহে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

 

পাকিস্তানের তুরবাতেও চরম তাপমাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৮ মে সেখানে ৫৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ± ০.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

WMO-এর প্রকাশিত রেকর্ডের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নিচে দেওয়া হলো:

 

স্থান দেশ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তারিখ
ফার্নেস ক্রিক, ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্র ৫৬.৭°C ১০ জুলাই ১৯১৩
কেবিলি তিউনিসিয়া ৫৫.০°C ৭ জুলাই ১৯৩১
মিত্রিবাহ কুয়েত ৫৩.৯°C ± ০.১°C ২১ জুলাই ২০১৬
তুরবাত পাকিস্তান ৫৩.৭°C ± ০.৪°C ২৮ মে ২০১৭
তিরাত জভি ইসরায়েল ৫৪.০°C ২১ জুন ১৯৪২
উডনাডাট্টা অস্ট্রেলিয়া ৫০.৭°C ২ জানুয়ারি ১৯৬০
রিভাদাভিয়া আর্জেন্টিনা ৪৮.৯°C ১১ ডিসেম্বর ১৯০৫

 

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি—ভিন্ন ভিন্ন রেকর্ডের নির্ভুলতা ও স্বীকৃতির মাত্রা এক নয়। তাই আন্তর্জাতিকভাবে তুলনা করার ক্ষেত্রে WMO-এর যাচাই করা রেকর্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

 

বার্ষিক গড় তাপমাত্রায় কোন দেশ সবচেয়ে উষ্ণ?

 

একটি দেশের জলবায়ু কতটা উষ্ণ তা বোঝার ক্ষেত্রে শুধু সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড যথেষ্ট নয়। একটি দেশ সারা বছর কতটা উষ্ণ থাকে, তা বোঝার জন্য বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বেশি কার্যকর সূচক।

 

২০২৫ সালের Our World in Data-এর Copernicus Climate Change Service-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক গড় পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রায় শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে ছিল—

দেশ ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা
মালি ২৯.৫৬°C
বুরকিনা ফাসো ২৯.২১°C
জিবুতি ২৯.১০°C
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৮.৮৫°C
সেনেগাল ২৮.৫২°C
নাইজার ২৮.৩৮°C
ওমান ২৮.২৮°C
বেনিন ২৮.২৬°C
মৌরিতানিয়া ২৮.২২°C
দক্ষিণ সুদান ২৮.১৯°C

 

এই হিসাবের তাপমাত্রা কোনো একটি দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নয়। বরং বছরের বিভিন্ন সময়ের তাপমাত্রা বিবেচনা করে গড় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মালি ২০২৫ সালে বার্ষিক গড় তাপমাত্রার হিসাবে শীর্ষে থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক তাপমাত্রার রেকর্ডও মালিতে রয়েছে।

 

মালি এত উষ্ণ কেন?

 

মালি পশ্চিম আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ সাহারা মরুভূমির সঙ্গে যুক্ত এবং দক্ষিণাঞ্চল সাহেল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এই ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির জলবায়ুকে উষ্ণ ও শুষ্ক করে তুলেছে।

 

মালির উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুবই কম এবং বছরের বড় সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে। শুষ্ক মাটিতে সূর্যের তাপ দ্রুত জমা হয়, ফলে দিনের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

 

এছাড়া দেশটির অবস্থান ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় বছরের একটি বড় সময় সূর্যের তীব্র বিকিরণ পাওয়া যায়। তবে মালি জুড়ে তাপমাত্রা একই নয়। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে।

 

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এত গরম হওয়ার কারণ কী?

 

বিশ্বের উষ্ণতম দেশ ও স্থানগুলোর একটি বড় অংশ আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। এর পেছনে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, এই অঞ্চলের অনেক দেশ নিম্ন অক্ষাংশে অবস্থিত। ফলে বছরের দীর্ঘ সময় সূর্যের বিকিরণ শক্তিশালী থাকে।

 

দ্বিতীয়ত, সাহারা, আরব মরুভূমি ও আশপাশের শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম। মাটিতে পানির পরিমাণ কম থাকায় সূর্যের শক্তির একটি বড় অংশ ভূমি ও বায়ুকে উত্তপ্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

 

তৃতীয়ত, শুষ্ক অঞ্চলে মেঘের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় দিনের বেলা সূর্যের তাপ সরাসরি ভূমিতে পৌঁছায়। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

 

তবে শুষ্ক মরুভূমির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—দিনে প্রচণ্ড গরম হলেও রাতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই কোনো অঞ্চলের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুব বেশি হওয়া এবং তার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হওয়া একই বিষয় নয়।

 

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আর অনুভূত গরম কি একই?

 

না। আবহাওয়ার তাপমাত্রা এবং মানুষ কতটা গরম অনুভব করছে—দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

কোনো এলাকার বাতাসের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সেখানে আর্দ্রতা বেশি থাকলে মানুষের শরীরে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে। এ কারণে আবহাওয়াবিদরা অনেক সময় Heat Index বা অনুরূপ সূচক ব্যবহার করেন।

 

অন্যদিকে মরুভূমির মতো অত্যন্ত শুষ্ক অঞ্চলে বাতাসের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি উঠলেও আর্দ্রতা তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে।

 

তাই ‘কোন দেশ সবচেয়ে গরম’ প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বার্ষিক গড়, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব—প্রয়োজনে এসব বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

 

সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড কীভাবে যাচাই করা হয়?

কোনো একটি আবহাওয়া স্টেশনে অস্বাভাবিকভাবে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হলেই সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

 

আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড যাচাইয়ের সময় পরিমাপের যন্ত্র, যন্ত্রটির অবস্থান, পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি, আবহাওয়া স্টেশনের আশপাশের পরিবেশ এবং একই সময়ে কাছাকাছি অন্যান্য স্টেশনের তথ্য বিবেচনা করা হয়।

 

এল আজিজিয়ার ৫৮°C রেকর্ড বাতিল হওয়ার ঘটনাটি এ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বোঝায়। পুরোনো কোনো রেকর্ড দীর্ঘদিন প্রচলিত থাকলেও নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পুনরায় পরীক্ষা করা সম্ভব।

 

তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ কোনটি?

 

‘পৃথিবীর সবচেয়ে গরম দেশ’ প্রশ্নের উত্তর একটিমাত্র সংখ্যায় দেওয়া ঠিক নয়। বার্ষিক গড় তাপমাত্রার ভিত্তিতে সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী মালি শীর্ষে রয়েছে, যার গড় পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৫৬°C।

 

অন্যদিকে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত একক তাপমাত্রার রেকর্ড হলো ৫৬.৭°C। এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালির ফার্নেস ক্রিকে, ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই রেকর্ড করা হয়।

 

আবার আফ্রিকার সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা ৫৫.০°C, যা তিউনিসিয়ার কেবিলিতে রেকর্ড হয়েছিল। এশিয়ার সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা ৫৩.৯°C ± ০.১°C, যা কুয়েতের মিত্রিবাহে রেকর্ড করা হয়।

 

সুতরাং, বার্ষিক গড় তাপমাত্রায় সবচেয়ে উষ্ণ দেশ এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়া স্থান—এ দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখাই সঠিক। বার্ষিক গড়ের হিসাবে মালি বিশ্বের উষ্ণতম দেশগুলোর শীর্ষে থাকলেও পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রার রেকর্ড এখনো ডেথ ভ্যালির ৫৬.৭°C।

 

এক নজরে

  • বার্ষিক গড় তাপমাত্রায় শীর্ষ দেশ: মালি
  • ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা: ২৯.৫৬°C
  • পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্বীকৃত তাপমাত্রা: ৫৬.৭°C
  • রেকর্ডের স্থান: ফার্নেস ক্রিক, ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
  • রেকর্ডের তারিখ: ১০ জুলাই ১৯১৩
  • আফ্রিকার সর্বোচ্চ স্বীকৃত রেকর্ড: ৫৫.০°C, কেবিলি, তিউনিসিয়া
  • এশিয়ার সর্বোচ্চ স্বীকৃত রেকর্ড: ৫৩.৯°C ± ০.১°C, মিত্রিবাহ, কুয়েত
  • বাতিল হওয়া পুরোনো রেকর্ড: ৫৮°C, এল আজিজিয়া, লিবিয়া

 

সূত্র: World Meteorological Organization (WMO), WMO Weather and Climate Extremes Archive, WMO-এর চরম তাপমাত্রার রেকর্ড এবং Our World in Data-এর Copernicus Climate Change Service-ভিত্তিক তাপমাত্রার তথ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *