পুনঃখননের পর নতুন রূপে ঐতিহাসিক খাল, কৃষকদের আশা দ্রুত চালু হবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও ঐতিহাসিক ‘জিয়ার স্বনির্ভর খাল’ উদ্বোধন না হওয়ার খবরে হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুনঃখনন ও সংস্কার শেষে প্রস্তুত হওয়া খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের চরকাউয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই খালটি প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পর পুনরায় খনন ও সংস্কার করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, খালটির পুনরুদ্ধার শুধু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, বরং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে ভোগা এলাকার কৃষকরা এই প্রকল্পকে কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
খালের দুই পাশে নির্মিত প্রশস্ত সড়ক কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করবে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, খালটির কাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসব সফরের কারণে দ্রুত উদ্বোধনের বিষয়ে মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
কৃষকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে কৃষিকাজে ব্যয় কমবে এবং বর্ষা ও শুকনো মৌসুম উভয় সময়েই পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্বাধীনতার পর দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত সেই উদ্যোগ তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে খালটি নাব্যতা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যকারিতা হারালেও সাম্প্রতিক পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে এটি আবারও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের এমন প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পারে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ার ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি স্থানীয় কর্মসংস্থান, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও কৃষি উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় চরকাউয়ার জিয়ার স্বনির্ভর খালকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা অনেক। পুনঃখননের মাধ্যমে নতুন রূপ পাওয়া খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কবে হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। তাদের আশা, দ্রুত উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যাবে।
