রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং মানুষের দোরগোড়ায় ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, গ্রাম থেকে শহরের ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। এ ব্যবস্থায় শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারী ও শিশুকে এই রূপান্তরের অন্যতম কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের শুধু সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, গর্ভধারণের আগের সময় থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী সময় এবং নবজাতকের সেবা পর্যন্ত ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলে মাতৃস্বাস্থ্যের পুরো প্রক্রিয়ায় ধাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সেবার পরিবর্তে সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
এই ব্যবস্থায় পরিবার ও কমিউনিটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডা. জুবাইদা রহমানের মতে, ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো, আর্থিক সুরক্ষা জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে মানুষের সুফল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং যথাসময়ে উপযুক্ত স্থানে মর্যাদাপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক নারীর বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার ধাত্রীর সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
নিজ নিজ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপযোগী সমাধান তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, পেশাদার ধাত্রীরা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের কার্যকর, সমতাভিত্তিক ও টেকসইভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহ
