প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নির্দিষ্ট ইউনিয়নগুলো নিয়ে যথাক্রমে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ ও ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন তিনটি উপজেলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা সরকারি সেবা গ্রহণে আরও সহজ সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন—বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভজপুর, হারুয়ালছড়ি এবং সুয়াবিল—নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস স্থাপনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ের নাগরিক সেবাগুলো স্থানীয় জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন—মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী এবং টাংগাব—নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক চাহিদা পূরণ হবে বলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন উপজেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অবকাঠামো অনুমোদনের বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইউনিয়নগুলো হলো—শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধৈইর (পূর্ব), পূর্বধৈইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং টনকী।
নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্থাপন এবং জনবল কাঠামোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক বিস্তৃতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার কারণে বড় উপজেলাগুলোকে বিভক্ত করে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে এবং জনগণকে সেবা প্রদানে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নেও নতুন উপজেলা কাঠামো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নতুন জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন তিনটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফটিকছড়ি উত্তর, দক্ষিণ গফরগাঁও ও বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক মানচিত্রে যুক্ত হলো নতুন তিনটি ইউনিট। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণের জন্য এটি উন্নত সেবা, দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
