পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা সরকারের
বিশ্বের বসবাসের জন্য সবচেয়ে অনুপযোগী শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করতে সরকার ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা মানবসমাজের টেকসই ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সাময়িক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারভিত্তিক বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সন্তান জন্মের মতো আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিটি পরিবার একটি করে গাছ রোপণ করতে পারে। বিদেশের বিভিন্ন শহরে এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন কয়েকটি কর্মসূচি গ্রহণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ এবং ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ চালুর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছাদবাগান, নগর বনায়ন এবং ইকো-ট্যুরিজমকে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’ নীতির বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু বিদেশি প্রজাতির গাছ রোপণে নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী গাছ নির্বাচন করা জরুরি। বিশেষ করে দেশীয় ও ঔষধিগুণসম্পন্ন বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দিলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার সব বিষয় কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নাগরিক সচেতনতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
অনুষ্ঠানে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ন, যানজট, বায়ুদূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন ঢাকার বাসযোগ্যতা সংকটকে তীব্র করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর দেওয়া রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকার পরিবেশগত সংকট ও বাসযোগ্যতা নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা নতুন আশার বার্তা দিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে প্রয়োজন।
