নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রতারণার মামলায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আদালতে তোলা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ পরান জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে পৌর শহরের বলাইগুয়া মীরবাড়ি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে স্থানীয়রা সাদিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে বুধবার সকালে প্রিয়া আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সাদিয়া কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। মঙ্গলবার বিকালে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, সাদিয়া তাকে এবং আরও চারজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা করে চান। পরে পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। বাকি দুই হাজার টাকা দিলে পরদিন ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রিয়া।
প্রিয়ার অভিযোগ, এভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়রা সাদিয়াকে আটক করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিচার চেয়ে তিনি মামলা করেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপির ওই নেত্রীকে পুলিশ আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
তার দাবি, সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ধরনের কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাদিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ধারণা, সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাদিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার মামলা করেছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি।
পরে মামলার আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাদিয়া সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
