ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন (সোশ্যাল রেজিস্ট্রি), প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, কর্মসূচিটির কার্যকারিতা অনেকাংশেই এর নকশা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে কতটা কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার পরিবর্তে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অধীনে পরিচালিত একাধিক কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সুবিধাভোগী নির্বাচন, অন্তর্ভুক্তি ও বাদ পড়ার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সহায়তার পরিমাণ এমন হতে হবে, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখবে। অতীতে ৫০০ বা ৬০০ টাকার ভাতা দিয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে মাসে আড়াই হাজার টাকা তুলনামূলকভাবে অর্থবহ সহায়তা হতে পারে, বিশেষ করে যাদের হাতে নগদ অর্থের প্রবেশাধিকার সীমিত।
এ সময় তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন (সোশ্যাল রেজিস্ট্রি), প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, অতীতে স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সুবিধা বণ্টনে নানা অভিযোগ ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা গেলে এসব সমস্যা কমবে এবং সেবা প্রদানের দক্ষতা বাড়বে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রয়োজন থাকলেও সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ফাহমিদা খাতুনের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া উচিত। এতে কর্মসূচিটি আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং টেকসই হবে।
