মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিং-বোলিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। কিন্তু যখন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে, তখনই যেন নিজের সেরাটা বের করে আনেন এই অলরাউন্ডার। ডারউইন টেস্টে ব্যাট হাতে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন তিনি।
ডারউইনে প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেনের ব্যাটে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া নতুন বল হাতে নেওয়ার পর মাত্র ১১ রানের মধ্যে নাজমুল, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ফিরে গেলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই শুরু মিরাজের লড়াই।
টেলএন্ডারদের সঙ্গে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে দলের লিড বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৫৪ বল মোকাবিলা করে ৬৫ রান করেন মিরাজ। তাঁর এই ইনিংসের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শুধু ব্যাটিং নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মিরাজের বলে শেষ পর্যন্ত নিজের ক্যাচ নিজেই তুলে দেন স্মিথ। মিরাজের হাতে সেই ক্যাচ ধরা পড়ায় বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ কেটে যায়।
চতুর্থ দিনে বল হাতে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। টানা ২০ ওভারের দীর্ঘ স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির ৫৬ রানের জুটি ভাঙার পর ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন। শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকে আউট করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মিরাজের এই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বেশি। ২০১৯ সালে কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো স্পিনারের পাঁচ উইকেট পাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এর আগে সর্বশেষ কোনো স্পিনার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ২০১২ সালে—শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ।
বাংলাদেশের টেস্ট জয়ে মিরাজের অবদানও দীর্ঘদিনের। তাঁর অভিষেকের পর বাংলাদেশ যে টেস্টগুলো জিতেছে, সেসব ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ উইকেট রয়েছে তাঁর। ব্যাট হাতেও জয়ের ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
রাওয়ালপিন্ডিতে লিটন দাসের সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতি সামলে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এনে দেওয়া কিংবা ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট-বল দুদিকেই কার্যকর ভূমিকা—মিরাজের ক্যারিয়ারে এমন উদাহরণ কম নয়।
তাই মেহেদী হাসান মিরাজকে শুধু একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দেখলে তাঁর ভূমিকার পুরোটা বোঝা যায় না। বাংলাদেশের বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার যে অভ্যাস তিনি তৈরি করেছেন, ডারউইন টেস্টে সেটিই আবার প্রমাণিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর ঐতিহাসিক জয়ে তাই মিরাজের নামটি আলাদা করে মনে রাখতেই হবে।
