বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে নিজের দীর্ঘ সাফল্যের পেছনের কারণ তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক উন্নতির চেষ্টাই তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতদিন সফল থাকতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে সিরিজটিতে তাঁর সামনে রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২২ বছর পর আবারও টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। ২০০৪ সালের পর এই মাঠে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। শক্ত ও বাউন্সসমৃদ্ধ উইকেটে নতুন বলে সুইং ও পেসের সুবিধা থাকায় অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন চার পেসার—মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ড। তাঁদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, গতি এবং সুইংয়ের কারণে স্টার্ককেই সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সাত ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১৩ উইকেট। যদিও টাইগারদের বিপক্ষে এখনো কোনো টেস্ট খেলেননি।
স্টার্ক বর্তমানে ১০৫টি টেস্টে ৪৩৩ উইকেটের মালিক। আর মাত্র সাতটি উইকেট পেলেই তিনি সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকে পেছনে ফেলবেন। একই সঙ্গে পেসারদের তালিকায় উঠে আসবেন পঞ্চম স্থানে।
২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ১১ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন স্টার্ক। বয়স বাড়লেও তাঁর ধার কমেনি; বরং পারফরম্যান্স আরও পরিণত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সংস্থা এএপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টার্ক বলেন, “আসল বিষয় হলো যা হয়ে গেছে, তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা। আপনি কখনোই ততটা ভালো বা খারাপ নন, যতটা আপনি নিজে ভাবেন কিংবা অন্যরা আপনাকে নিয়ে ভাবে। কোনো কিছু পরিকল্পনামতো না হলে এখনো আমি নিজের ভুল খুঁজে দেখি।”
নিজের উন্নতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “৩৬ বছর বয়সে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ বছর কাটানোর পর স্বাভাবিকভাবেই নিজের খেলায় উন্নতি আসার কথা। দীর্ঘদিন টিকে থাকার মূল কারণ নতুন কিছু শেখা, নিজের বিকাশ ঘটানো এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও শাণিত করার চেষ্টা। এর সঙ্গে ওবল সিমের কার্যকর ব্যবহার ও ধারাবাহিক লাইন-লেংথ বজায় রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
পরিসংখ্যানও স্টার্কের ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। ৩৫ বছর বয়স অতিক্রম করার পর অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের মধ্যে গ্লেন ম্যাকগ্রা ছাড়া আর কেউ তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি। গত অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ইনিংসে ৩১ উইকেট নিয়ে দুই দলের মধ্যেই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি।
ডেল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে স্টার্ক বলেন, “এর মানে সম্ভবত আমি অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলছি। তবে ওই কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে স্টার্কের অভিজ্ঞতা, গতি ও সুইং অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এই সিরিজেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
