এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী ও অভিনেত্রী-মডেল শিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাষকে ঢাকার আশুলিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রোববার কারাগার থেকে মিষ্টি সুভাষকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ১২টার পর তাকে কাঠগড়ায় নেওয়ার সময় হাজতখানা থেকে বের হলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে আবার হাজতখানায় নিয়ে যান। পরে সুস্থ বোধ করলে তাকে পুনরায় আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।
শুনানির সময় বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চান মিষ্টি সুভাষ। অনুমতি পেয়ে নিজের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাওয়া অপরাধ হতে পারে না। তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, জামিন পেলেই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাওয়ার সময় মিষ্টি সুভাষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।
জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই আশুলিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ।
গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান কারাগারে থাকা মিষ্টি সুভাষকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে আদালত তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মিষ্টি সুভাষের পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি অনুমোদন করেননি।
