আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের শেষ দিকে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির সমর্থনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বিভিন্ন এলাকায় বেশি হওয়ায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেক এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।দলীয় প্রতীক না থাকলেও সমর্থন দেবে দলগুলো
সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতীয় রাজনীতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশীদার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের শক্তিতে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জোটগতভাবে নির্বাচন করবে না বলে জানিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা উত্তরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির পক্ষ থেকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জামায়াত প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মনোনীত করেছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দলীয় সূত্রে তাদের প্রত্যেককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও বিএনপির বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সাদিক কায়েম ও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো তরুণ প্রার্থীদের মোকাবিলায় ইশরাক হোসেনকে সামনে আনার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলো স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না। জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও বেশি বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে জামায়াত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা দল সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সব সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানানো হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীদের নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের।
অন্যদিকে এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, দলটি এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
