কেপ ভার্দের রূপকথার বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এবার যোগ দিলেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর দলে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার চিলির শীর্ষ লিগের ক্লাবটির সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
গত সোমবার কোলো কোলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন ভোজিনিয়া। এর একদিন পর জমকালো আয়োজনে তাকে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ক্লাবটি। চুক্তির আগে রোববার তিনি চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ক্লাবটির সমর্থকেরা। এরপর নতুন সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনেও যোগ দেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে ভোজিনিয়া খেলতেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেজে। এর আগে দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও পর্তুগালের বিভিন্ন নিম্নস্তরের ক্লাবে খেলেছেন তিনি। তবে নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো আত্মবিশ্বাস হারাননি বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
নতুন ক্লাবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনিয়া বলেন, “ছোট লিগ বা কম পরিচিত ক্লাবে খেললেও আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, বড় ক্লাবে খেলার সামর্থ্য আমার আছে। কোলো কোলো প্রস্তাব দেওয়ার পর কোনো দ্বিধা ছিল না। অনেক প্রস্তাব পেলেও আমার প্রথম পছন্দ ছিল কোলো কোলো। বিশ্বকাপ আমার ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি, তবে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এত ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবে খেলতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
চিলির ফুটবল লিগের নিয়ম অনুযায়ী জার্সিতে খেলোয়াড়দের সরকারি নাম ব্যবহার করতে হয়। ভোজিনিয়ার পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে কোলো কোলো চিলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে তাকে ‘ভোজিনিয়া’ নামেই খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
নিজের ডাকনাম নিয়ে আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সারা জীবন এই নামেই খেলেছি। এর পেছনে পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। এখন সারা বিশ্ব এই নামেই আমাকে চেনে। আমার দাদি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই গর্বিত হতেন। ক্যারিয়ারের বাকি সময়ও এই নামেই খেলতে চাই, তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে।”
পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ছোট দাদি’।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন এই গোলরক্ষক। গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে ড্র এবং শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্ট শেষে তিনি ফিফার সেরা একাদশেও জায়গা করে নেন।
বিশ্বকাপে আলোচিত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ভোজিনিয়ার নামে একটি নতুন সামুদ্রিক শামুকের প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় তিন কোটিতে পৌঁছেছে।
