বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে ফাইনালের ভেন্যু নিউইয়র্কে পৌঁছেছে দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও স্পেন। আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য মহারণে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম দুই শক্তিধর দল মুখোমুখি হবে বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের লক্ষ্যে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এর পরদিন দলটি নিউ জার্সি স্টেডিয়াম এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। সেখানে পৌঁছালে আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা দলটিকে স্বাগত জানান।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে বিমানবন্দর ও দলের আবাসস্থলের বাইরে ভিড় করেন সমর্থকেরা। জাতীয় পতাকা ও মেসির জার্সি হাতে ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও তারা প্রিয় দলকে শুভকামনা জানান।
অন্যদিকে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা স্পেনও ইতোমধ্যে নিউ জার্সিতে তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি প্রথমে পুনরুদ্ধারমূলক অনুশীলন (রিকভারি সেশন) সম্পন্ন করে, এরপর কৌশলগত প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেয়।
স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে প্রেসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ অনুশীলন করাচ্ছেন। তবে ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রো পোরোকে সাময়িক বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
ফাইনালের আগে দুই দলের কোচিং স্টাফ এখন খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সেরা একাদশ নির্ধারণ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। লক্ষ্য একটাই—শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেওয়া।
এই ফাইনালকে ঘিরে বাড়তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার এই তারকার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা। একই সঙ্গে নিজের বিশ্বকাপ অধ্যায়ে আরেকটি গৌরবময় সাফল্য যোগ করার সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে স্পেন ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দারুণ ছন্দে রয়েছে।
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই ফাইনালকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে। এখন সবার অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কার হাতে ওঠে।
