ফিফার শাস্তির তালিকায় আর্জেন্টিনার আরও দুই খেলোয়াড়, জরিমানার মুখে এএফএ
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একই ঘটনায় আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনা ও থিয়াগো আলমাদাকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) বড় অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে।
ফাইনালের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় পারেদেসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।
পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। শাস্তির সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
পারেদেস ও মলিনাকে ৯০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা করে। আলমাদাকে জরিমানা করা হয়েছে ৩০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ১০টি ম্যাচ রয়েছে। তাই পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যত আগামী এক বছর জাতীয় দল থেকে তাঁর অনুপস্থিতির অর্থ দাঁড়াচ্ছে। এ সময় কোনো বড় প্রতিযোগিতা না থাকায় ম্যাচগুলো মূলত প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা।
ফাইনালের ঘটনায় স্পেনের তরুণ তারকা গাভিকেও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ফলে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে পাবে না স্পেন।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকেও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ৩০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগানের বিষয়টিও শাস্তির আওতায় এসেছে।
জরিমানার মধ্যে ১ লাখ ডলার বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয়ের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা অবশ্য ফিফার কাছ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রাইজমানি পেয়েছে।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনাকে ঘরের মাঠে পরবর্তী দুটি ম্যাচ অর্ধেক দর্শক নিয়ে আয়োজন করতে হবে।
ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আপিল ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর ঘটে যাওয়া ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফার এই শাস্তি আর্জেন্টিনা দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
