আলফানসো থেকে আপেল ম্যাঙ্গো—বিরল জাতের আমগাছ ঘিরে দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হওয়া মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের চারার পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিরল ও উচ্চমূল্যের আমগাছ। ভারত, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রুনাই ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আমের চারা দেখতে এবং কিনতে ভিড় করছেন বৃক্ষপ্রেমী ও শৌখিন বাগানিরা।
মেলার বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শিত এসব আমগাছের মধ্যে রয়েছে আলফানসো, আপেল ম্যাঙ্গো, হানিডিউ, তোতাপুরি, কিং অব ব্রুনেই ও আনোয়ার-আতুলের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত জাত। কিছু চারার দাম যেখানে কয়েকশ টাকা, সেখানে বিশেষ জাতের কিছু চারা বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাদবাগান ও শখের ফলচাষ জনপ্রিয় হওয়ায় বিদেশি ফলের গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এবার মেলায় আনা হয়েছে শতাধিক জাতের আমের চারা।
একটি নার্সারির মালিক জানান, ভারতের বিখ্যাত আলফানসো আমের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের হানিডিউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আপেল ম্যাঙ্গো ক্রেতাদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্বাদ, সুবাস ও ফলের আকারের কারণে এসব জাতের আম বাজারে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
মেলায় প্রদর্শিত কিছু বিশেষ জাতের আমগাছের চারা উচ্চমূল্যের কারণে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব চারা দীর্ঘ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নত গ্রাফটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়। ফলে দামও তুলনামূলক বেশি।
বিশেষ করে হানিডিউ ও আপেল ম্যাঙ্গো জাতের চারার মূল্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জাতের ফল আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ফলদ গাছের চারার সংখ্যা তিন শতাধিক। আম ছাড়াও রয়েছে পার্সিমন, ডুরিয়ান, জাবুটিকাবা, রামবুটান, ম্যাঙ্গোস্টিন ও সুগন্ধি নারকেলের মতো বিদেশি ফলের গাছ।
এ ছাড়া প্রায় এক হাজার প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ, বিভিন্ন জাতের ফুল ও পাতাবাহারও প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে মেলাটি শুধু গাছ কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্য একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবারের মেলায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ চারা বিক্রি হতে পারে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে চারার চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণের চাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, প্রতিবছর নতুন প্রজাতির গাছ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের বাগান সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান তারা। বিশেষ করে ছাদবাগানপ্রেমীদের কাছে এই মেলা নতুন গাছ সংগ্রহের অন্যতম বড় উৎস।
দেশি-বিদেশি ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের সমাহারে এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা হয়ে উঠেছে সবুজপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। উচ্চমূল্যের বিরল আমগাছ থেকে শুরু করে সাধারণ ফলদ চারা—সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও বৃক্ষরোপণ সংস্কৃতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ আয়োজন।
