রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারা বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ঔষধি গাছের চারার।
গত ৯ জুলাই আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাসব্যাপী আয়োজন শেষে রোববার (৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের বন ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার পর্দা নামে।
বন বিভাগের হিসাবে, এবারের মেলায় মোট ৭৪টি স্টল অংশ নেয়। গত বছর মেলায় ১৫ লাখ চারা বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে এবার গতবারের তুলনায় এক লাখ বেশি চারা বিক্রি হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এবারের মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি এবং চারার বিক্রি—দুটিই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলে চারা রোপণ ও সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করলে ২০৩৫ সালের আগেই দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
এবারের মেলায় ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ডাবল স্টল ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে ‘হোসেন নার্সারি’। নার্সারিটি মেলায় ৯৪ হাজার চারা বিক্রি করে ৯২ লাখ টাকা আয় করেছে।
চারার বৈচিত্র্য ও বিক্রির পরিমাণ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সেরা নির্বাচিত করা হয়। তাদের ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির গাছের চারা দিয়ে স্টল সাজানো হয়েছিল। এর মধ্যে ফলদ, বনজ, অর্নামেন্টাল, অর্কিড, বনসাই ও ঔষধি গাছের চারা ছিল।
হোসেন নার্সারির স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবারের মেলায় ঔষধি গাছের চারার চাহিদাই ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ‘ইনস্যুলিন প্ল্যান্ট’ বেশি বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি হরীতকী, বহেড়া, তুলসী, নিম, নিশিন্দা, ওরেগ্যানো, করোসেল ও পাথরকুচির চারাও বিক্রি হয়েছে।
মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় ভেষজ ও ঔষধি গাছের চারার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন সাদ্দাম হোসেন।
এদিকে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সিঙ্গেল স্টল ক্যাটাগরিতে এবার শ্রেষ্ঠ হয়েছে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিক্সন আহমদ জানান, তাঁদের স্টলেও ঔষধি গাছের চাহিদা ছিল বেশি। হরীতকী, বহেড়া, অশ্বগন্ধা, নাগেশ্বর, কর্পূর ও হাড়জোড়াসহ ৩৫ প্রজাতির ঔষধি গাছের চারা তাঁরা বিক্রি করেছেন।
বিসমিল্লাহ নার্সারি এবারের মেলায় মোট ১৫ হাজার চারা বিক্রি করেছে। নিক্সন আহমদ বলেন, ফলদ গাছের চারারও ভালো চাহিদা ছিল। এর মধ্যে রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভাকাডো ও আঙুরের চারার বিক্রি ছিল উল্লেখযোগ্য।
