ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে আসনটি ঘিরে জামায়াতের নির্বাচনি তৎপরতাও বেড়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও আসনটি ধরে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ও মেয়ে ড. শামারুহ মির্জাকে ঘিরে দলের ভেতরে নতুন সমীকরণের আলোচনা চলছে।আলোচনায় মির্জা ফয়সাল আমিন
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশও স্পষ্ট হচ্ছে। ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপতির ছোটভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক অবস্থান এবং তৃণমূলের বড় একটি অংশের সমর্থনের কারণে তাকে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও মির্জা পরিবারের রাজনীতিতে নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা প্রকাশ্যে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির নেতৃত্ব মির্জা ফয়সাল আমিনের হাতে থাকবে।
তবে দলের একাংশের মধ্যে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জাকে নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি রাজনীতিতে আসবেন কি না বা পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ কারণে তার প্রার্থিতা এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোট রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে এই ভোট বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সচেতন মহলের মত।
তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় এসব সম্প্রদায়ের ভোটাররা অসাম্প্রদায়িক ভাবধারার প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই। তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি শক্তি সম্মিলিত প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন নিজেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘অঘোষিতভাবে আমি এই নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে অফিসিয়াল প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও জানান, দলের কেন্দ্র থেকে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তার আশা, এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত রাখতে ভোটাররা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফলে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফয়সাল আমিন নাকি শামারুহ মির্জা—কে মাঠে নামছেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
