জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে নিজের মেয়াদ ও নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
শাহাদাত হোসেন বলেন, লালদিঘীতে জামায়াত আমির ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’-এর কথা বলেছেন। তার দাবি, তার নির্বাচনী রায় আগের সরকারের সময় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে রেজাউল করিম মেয়র হলে সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলার রায়ের ভিত্তিতেই তাকে বৈধভাবে মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
চসিক মেয়র আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রায়টি ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে শাহাদাত বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত ওই রায়ের জন্য তিনি তিন বছর লড়াই করেছেন। মামলা করার কারণে তাকে ছয় মাস জেলে থাকতে হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বারবার ‘মিথ্যা গায়েবি মামলা’ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, গত ১৬ বছরে তার বিরুদ্ধে ১১০টির বেশি মামলা হয়েছে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা। শাহাদাতের দাবি, রায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রকে অবৈধ এবং তার মেয়াদকেও অবৈধ বলা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেও জানান শাহাদাত। তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেদিনই তিনি নিজে থেকে পদ ছেড়ে দেবেন।
শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি সব ধরনের গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানান এবং যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের সবারই সেই অধিকার থাকা উচিত। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচনের পক্ষে বলেও জানান।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শাহাদাত বলেন, তার মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মনে করেন আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিমকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিজমকে’ সমর্থন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে শাহাদাত বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ‘সুন্দর ও নির্মল রাজনীতি’ করে আসছেন এবং গণতন্ত্রকে সম্মান করেছেন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই তিনি পদ ছেড়ে দেবেন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।
