উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে দুটি প্রকল্পে এ অনুদান দেওয়া হবে
বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে দুটি প্রকল্পে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির মাধ্যমে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জার্মানির সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস’ প্রকল্পে (কানেক্ট) জার্মানি দেবে ৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রমেও ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার, সামুদ্রিক সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জিআইজেডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্থল ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পে (ইই৪ডেভ) জার্মানি দেবে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনে জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পটিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে যুক্ত করে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, মানদণ্ড উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ জোরদার করা হবে। এর ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতে একই পরিমাণ উৎপাদন বা সেবা দিতে কম জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টেকসই জ্বালানি ও জলবায়ু সুরক্ষা জার্মানির বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র। বাংলাদেশে জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধিও দীর্ঘদিনের।
১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে জিআইজেড। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু, জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে জার্মানি। বর্তমানে দেশটিতে জিআইজেডের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
বাসসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে জিআইজেডের ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে বাংলাদেশে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
নতুন দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে জার্মান সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হলো।
