ইউক্রেনে নতুন করে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর জ্যেষ্ঠ সহযোগী ইরিনা মুডরাকে বরখাস্ত করেছেন। প্রেসিডেন্টের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুডরার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তাঁর বাসায় তদন্ত কর্মকর্তাদের তল্লাশি চালানোর খবরও প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ইরিনা মুডরাকে বরখাস্ত করার আনুষ্ঠানিক কারণ অবশ্য জানায়নি ইউক্রেন সরকার। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের খবর প্রকাশের পরই প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে ডিক্রি জারি করে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি ইউক্রেনে সরকার ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। এর এক দিন আগে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনকে ‘শাসনব্যবস্থার সংকট’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ চললেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন তিনি।
মিখাইলো ফেদোরভ গত মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এর পেছনে ইউক্রেনের শাসনব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত সংকট রয়েছে।
ফেদোরভ বলেন, ‘দুর্নীতি কেবল একটি উপসর্গ। মূল সমস্যা আরও গভীরে গেঁথে আছে। আমাদের শাসনব্যবস্থায় একটি পদ্ধতিগত সংকট আছে।’
গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেন। তাঁর অপসারণকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে উল্লেখযোগ্য গণবিক্ষোভও হয়।
ফেদোরভের অভিযোগ ও নির্বাচনের দাবি নিয়ে জেলেনস্কি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে উয়েভহেন খমারাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় ইউক্রেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে কথা বলেছেন। তবে তাঁর ওই মন্তব্য এসেছিল জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়।
এবার ফেদোরভের নির্বাচনের দাবি বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অবস্থান ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইরিনা মুডরা জেলেনস্কির দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন। অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁর বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছেন—এমন খবর ইউক্রেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে মুডরার বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে তাঁকে বরখাস্ত করার নির্দিষ্ট কারণও প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের পাশাপাশি দুর্নীতি, প্রশাসনিক সংকট ও নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্নে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জ্যেষ্ঠ সহযোগীকে বরখাস্ত করার ঘটনা সেই চাপকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
