সিনেটে ৮৬–১১ ভোটে পাস নিষেধাজ্ঞা বিল; তালিকায় ভারত ও চীন, প্রতিনিধি পরিষদে যাবে প্রস্তাব
রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাস হয়েছে। ৮৬–১১ ভোটে অনুমোদিত বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনসহ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সেখানে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া গ্রাহাম ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিলেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে।
সিনেটে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বিলটির বিষয়ে বলেন, এটি ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এক বছরের বেশি সময় ধরে গ্রাহামের সঙ্গে বিলটি পাসের জন্য কাজ করেছেন। ভোটের পর তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ একা নয়।
ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে এবং পুতিন মস্কো থেকে এটি দেখছেন। আমি ভাবতে পছন্দ করি যে লিন্ডসে গ্রাহামও ওপর থেকে এটি দেখছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের সমর্থন পাওয়া বিলে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত ও চীন। অন্য তিনটি দেশ হলো আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।
তবে যেসব দেশ তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, তাদের জন্য বিলটিতে ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলটিতে শুধু শুল্ক আরোপের বিষয়ই নয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়া যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজের পতাকা পরিবর্তন করে ব্যবহার করছে, সেগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি বিক্রি করে অর্জিত আয়ের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজন হলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ক্ষমতাও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে যে পদক্ষেপটি জাতীয় স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও বিলে রয়েছে। ওই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
সিনেটে পাস হওয়া বিলটি কার্যকর হতে হলে এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
