বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। আগামী সপ্তাহেই একটি মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সার্জিও গোর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে এবং সম্ভাব্য খাতগুলো সরেজমিনে মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে তারা খুব শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন।
বৈঠক শেষে সার্জিও গোর জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে শুক্রবার তিনি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। সফরকালে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান মার্কিন এই বিশেষ দূত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সার্জিও গোর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, যা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের সফর, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)–এর মাধ্যমে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিশেষ করে ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। সার্জিও গোর কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানে আসিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
