শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহরে পাঠাগার ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মতো গুণ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী এ বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামে পাঠাগার ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে তাদের মধ্যে মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠবে।
বই পড়ার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং অন্যকে সম্মান করার মানসিকতাও বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে তারা ধৈর্যশীল মানুষ হিসেবে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে লেখা বইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, এসব বইয়ে তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ, ধৈর্য, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এসব আদর্শ ও দিকনির্দেশনা মানুষের চলার পথে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি মানুষ বিশ্বসমাজেরও অংশ। তাই বিশ্বের জ্ঞান আহরণে গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁর মতে, একটি সভ্য জাতির অন্যতম পরিচয় বই এবং পড়াশোনার চর্চা। জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে যেতে না পারলে কোনো পরাশক্তি বা আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।
মাহবুব উল্লাহ প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে অগ্রসর হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শুধু জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, কবি, বিজ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের জীবন ও কাজ নিয়েও পড়াশোনার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের গ্রন্থাগারগুলোর অবহেলার সমালোচনা করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, গ্রন্থাগারগুলোকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, গ্রন্থাগার পুনরুজ্জীবিত করা গেলে সমাজের কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও নানা ধরনের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণদের নেশার জগত থেকেও বই ও পাঠাগার ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নিয়মিত বই পড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন মুন্সি রেজাউল হোসেন টিটু।
নয় দিনব্যাপী বইমেলায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস ও শিশুতোষ বইও রাখা হয়েছে।
