T TIME NEWS (6)

সংসদে হান্নান মাসুদের বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত বিতর্ক, রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি

 

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার সময় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)–এর সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও ওঠে।

রোববার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হান্নান মাসুদ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করছেন, যা বিরোধী দলের সদস্যদের হতাশ করছে। তিনি বলেন, মদ ও সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দল আন্দোলন করছে—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার এই মন্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদ কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যে হান্নান মাসুদ আরও দাবি করেন, খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে তারা সবাই বড় সম্পত্তির মালিক এবং ঋণ নেন না। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য ঋণখেলাপিদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

হান্নান মাসুদের বক্তব্যের পর বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, সংসদে কোনো অসত্য তথ্য বা সংসদ নেতা সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করা উচিত নয় এবং বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো বক্তব্যকে ভুল দাবি করলে তা তথ্য-প্রমাণসহ ব্যাখ্যা করতে হবে। তিনি যুক্তি দেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে তা নিয়ে আলোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভিন্নমতকে দমনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও হান্নান মাসুদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে সরাসরি ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ওই অংশ সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে সংসদে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

পরে হান্নান মাসুদ পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন। মাইক্রোফোন ছাড়াই কথা বলার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের নিজস্ব নিয়ম-কানুন রয়েছে এবং সদস্যদের তা অনুসরণ করতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, “এটি শাহবাগ নয়, এটি জাতীয় সংসদ।”

বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সংসদের বাইরে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ানো উচিত নয়। তার মতে, সত্য-মিথ্যা নিয়ে দীর্ঘ তর্ক শুরু হলে তা অনেকের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংসদে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজেট অধিবেশনের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে সামনে আসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *